শরীরের মাপ কীভাবে নেবেন
এই ক্লাস থেকে আপনি যা পাবেন: নির্ভরযোগ্য ও পুনরাবৃত্তিযোগ্য একটি মাপের সেট নেওয়া, যা পরপর দুবার একই ফল দেয়।
আসলে যে মাপগুলো লাগে
ত্রিশটি মাপের দরকার নেই। বেশিরভাগ পোশাকের জন্য সাতটি বা আটটিই যথেষ্ট, আর গুরুত্বপূর্ণ হলো কয়টি নিলেন তা নয়, ঠিকভাবে নিলেন কি না।
- বুকের (বাস্ট) ঘের: সবচেয়ে ভরা জায়গায়, ফিতা অনুভূমিক রেখে এবং হাত শিথিলভাবে দুই পাশে রেখে।
- কোমরের ঘের: ধড়ের সবচেয়ে সরু জায়গায়, ফিতা টেনে না ধরে।
- হিপের ঘের: সবচেয়ে ভরা জায়গায়, কোমরের প্রায় 20 সেমি নিচে।
- পিঠের প্রস্থ: পিঠ জুড়ে এক কাঁধের হাড় থেকে অন্য কাঁধের হাড় পর্যন্ত।
- পিঠের দৈর্ঘ্য: ঘাড়ের গোড়া থেকে কোমর পর্যন্ত।
- হাতের দৈর্ঘ্য: কাঁধের হাড় থেকে কবজি পর্যন্ত, হাত সামান্য বাঁকা রেখে।
- রাইজ: বসা অবস্থায়, কোমর থেকে চেয়ার পর্যন্ত।
- পায়ের দৈর্ঘ্য: কোমর থেকে প্যান্ট যেখানে শেষ হওয়ার কথা সেখান পর্যন্ত।
ফিতা কীভাবে বসাবেন
ফিতা শরীরের ওপর আলতোভাবে বসবে, না টাইট না ঢিলা। পরীক্ষাটা সহজ: ফিতা আর শরীরের মাঝে একটি আঙুল সামান্য বাধা নিয়ে ঢুকলে ঠিক আছে।
ফিতা চারদিকে অনুভূমিক থাকতে হবে। সবচেয়ে সাধারণ ভুল হলো পেছনে ফিতা ঝুলে যেতে দেওয়া: মাপ আসল মাপের চেয়ে বড় আসে এবং পোশাক পিঠে বেশি ঢিলা হয়।
মানুষটি স্বাভাবিকভাবে দাঁড়াবেন, হাত দুই পাশে রেখে এবং বুক ফুলিয়ে না। “ছবির জন্য” সোজা হয়ে দাঁড়ালে সেই মাপ দিনের বাকি সময় পরার পোশাকের কাজে লাগবে না।
মাপ নেওয়ার সময় কী পরবেন
হালকা, গায়ে লেগে থাকা পোশাক পরুন, অথবা সরাসরি অন্তর্বাসের ওপর মাপ নিন। সোয়েটশার্টের ওপর মাপ নিলে পাঁচ সেন্টিমিটার বেড়ে যায়, যা পরে তৈরি পোশাকে বাড়তি ঢিলাভাব হয়ে দেখা দেয়।
পোশাকটি যদি অন্য পোশাকের ওপর পরা হয়, যেমন জ্যাকেট, তাহলে সোয়েটশার্ট পরে মাপ নিয়ে তার সমাধান হয় না। সমাধান হলো প্যাটার্নে ইচ্ছে করে ঢিলাভাব যোগ করা।
লিখে রাখুন এবং দুবার যাচাই করুন
প্রতিটি মাপ সঙ্গে সঙ্গে লিখে রাখুন, শেষে নয়। আর তিনটি প্রধান মাপ (বুক, কোমর, হিপ) দুবার নেওয়া ভালো: দ্বিতীয় রিডিং প্রথমটির চেয়ে এক সেন্টিমিটারের বেশি আলাদা হলে কিছু একটা আলাদাভাবে করা হয়েছে, আবার নিতে হবে।
এই ত্রিশ সেকেন্ডের যাচাই প্যাটার্ন মেকিংয়ের সবচেয়ে কঠিন সমস্যা ঠেকায়: পোশাক ভুল হয়ে গেছে, কিন্তু কেউ জানে না কেন।
সাধারণ ভুল
- “পোশাক গায়ে লেগে থাকুক” ভেবে ফিতা টেনে ধরা: ঢিলাভাব প্যাটার্নে ঠিক হয়, ফিতা চেপে নয়।
- মোটা পোশাকের ওপর মাপ নেওয়া।
- ঘেরের মাপ নেওয়ার সময় পেছনে ফিতা ঝুলে যেতে দেওয়া।
- হাত পুরো সোজা রেখে হাতের দৈর্ঘ্য নেওয়া: হাত বাঁকালে হাতা বেশি ছোট হয়ে যায়।
সংক্ষেপে
সাতটি বা আটটি ঠিকভাবে নেওয়া মাপই যথেষ্ট। ফিতা শরীরের ওপর আলতোভাবে ও অনুভূমিক থাকে, হালকা পোশাক পরা হয়, এবং তিনটি প্রধান মাপ দুবার নিয়ে যাচাই করা হয়।
সাধারণ প্রশ্ন
- একটি সেলাই প্যাটার্ন বানাতে কয়টি মাপ লাগে?
- বেশিরভাগ পোশাকের জন্য সাতটি বা আটটি: বুক, কোমর, হিপ, পিঠের প্রস্থ, পিঠের দৈর্ঘ্য, হাতের দৈর্ঘ্য, রাইজ ও পায়ের দৈর্ঘ্য।
- তৈরি প্যাটার্ন কিনলে কি মাপ নিতে হয়?
- স্ট্যান্ডার্ড সাইজ রেঞ্জে প্রোডাকশন করার জন্য নয়, কারণ প্যাটার্ন আগে থেকেই গ্রেডেড। মাপ কাজে লাগে প্রতিটি গ্রাহকের জন্য কোন সাইজ মানায় তা ঠিক করতে এবং আপনার ব্র্যান্ডের নিজস্ব সাইজ চার্ট থাকলে প্যাটার্ন মানিয়ে নিতে।